নিউজ ডেস্ক | বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট | ৬৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক দুদিন পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ইরান। ম্যাচের আগে যখন ইরানের জাতীয় সংগীত বাজছিল, ইরানের মেয়েরা তখন ঠোঁট মেলাননি। অনেকেই মনে করছেন, এটি ইরানের বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে নারী ফুটবল দলের প্রতিবাদ।
এশিয়া কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করা ইরান নারী ফুটবল দলের কিছু খেলোয়াড় দেশটিতে আশ্রয় চেয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম খবর এসেছে। এমন দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজকে এ ব্যাপারে অনুরোধও করেছেন। তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে অস্ট্রেলিয়া পাঁচ ইরানি ফুটবলারকে আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরো নিউজ।
ইউরো নিউজ জানায়, ট্রথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন,আমি এই মাত্র প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে কথা বললাম। তিনি রাজি হয়েছেন। এরই মধ্যে পাঁচজনের দায়িত্ব নিয়েছেন।এর ঘন্টা দুয়েক আগে আরেক পোস্টে তিনি তাদের আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।ট্রাম্প এটাও লিখেছেন, কিছু খেলোয়াড় মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়তো ফিরে যাবে, কেননা দেশে থাকা পরিবারের নিরাপত্তার জন্য ভেবে তারা উদ্বিগ্ন।
দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইনের কাছে টানা তিন ম্যাচে হেরে বিদায় নিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তারা অস্ট্রেলিয়ায় উদ্দেশে দেশ ছাড়ে।
এদিকে, ইরানের হেড কোচ মারজিয়েহ জাফারির উদ্ধৃতি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি লিখেছে, ইরান স্কোয়াড যতটা দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে যাবে। তিনি বলেছেন,আমি আমার দেশ ও ঘরে ফিরতে চাই। আমরা ফিরে যেতে উদগ্রীব হয়ে আছি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক দুদিন পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ইরান। ম্যাচের আগে যখন ইরানের জাতীয় সংগীত বাজছিল, ইরানের মেয়েরা তখন ঠোঁট মেলাননি। অনেকেই মনে করছেন, এটি ইরানের বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে নারী ফুটবল দলের প্রতিবাদ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ তকমা দেয়া হয়েছে। আর এই তকমাই তাদের জীবনের ওপর ঝুলিয়ে দিয়েছে এক বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
ইরানের প্রয়াত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছেন,ইরানের নারী ফুটবলাররা এখন প্রচণ্ড চাপের মুখে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পক্ষ থেকে তাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমি অস্ট্রেলিয়া সরকারকে আহ্বান জানাই, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেয়া হোক।



